Fix – Windows 8 “Change PC Settings” Not working

While facing the same problem I Googled about it and found I’m not the only one. Well, let me explain the problem for you. When I open the Windows 8 Charms Bar and click on Settings gear icon and then click on the Change PC Settings link on the bottom of the page, nothing happens!!

I went to this Microsoft Answers page and found an experienced Microsoft MVP gave a funny suggestion, which is to restore your Windows to previous condition. Dude, seriously! We just cannot roll our system back to some old stage.

So I used my head and tried to remember what I did wrong and how I can correct this. For me, it’s not possible to roll back to anywhere. Maybe my MVP friend have plenty of time, but unfortunately I don’t.

Then I remember that while playing with my start menu items, I have deleted the PC settings shortcut. This also happens if someone installs a 3rd party start menu and customizes that.

PC Settings

So I went to C:\ProgramData\Microsoft\Windows\Start Menu\Programs on a friend’s PC. Took the PC settings shortcut and put it in the same location on my PC.

Yahoo! it’s fixed!!

Well if you are suffering from the same problem and thinking where to get the shortcut from as you may not have any friend running Windows 8. Well, don’t worry, lit me help you in few easy steps-

  • Download the zip file from here.
  • Extract it and you’ll get the PC settings shortcut in there.
  • Put the shortcut in C:\ProgramData\Microsoft\Windows\Start Menu\Programs (You cannot move the shortcut to that place. You have to copy paste)

And you are good to go. Let me know how it went with you.

পোস্টপেইড মোবাইল! না ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চা!!

মোবাইল প্ল্যান

অনেকদিন থেকেই ভাবছি বিষয়টা নিয়ে লেখা দরকার, কিন্তু লেখা হয়নি। আজকে হঠাৎ ফেসবুকে আব্দুন নূর তুষারের পোষ্টটি চোখে পড়লে আবার বিষয়টি নিয়ে লেখার উৎসাহ ফিরে পাই।

আমার ধারণা আমাদের দেশের ৯০%-এর বেশী মোবাইল ফোন গ্রাহক প্রিপেইড মোবাইল সংযোগ ব্যবহার করেন, যার কারনে এই বিষয়টা নিয়ে সেরকম মাথা ব্যাথা কারও নেই। অথচ একসময় মোবাইল অপারেটাররা অনেক মুলা ঝুলিয়ে পোস্টপেইড সংযোগগুলি বিক্রি করেছে গ্রাহকদের কাছে, যার খেসারত এখনো দিতে হচ্ছে। আমি যদি তুষার ভাইর লেখাটি কোট করি, উনি লিখেছেন-

গ্রামীন ফোন ১৯৯৭ সালে পোস্টপেইড গ্রাহকদের কাছ থেকে ৫০০০ টাকা নিরাপত্তা জামানতে হিসেবে নিয়ে ফোন দিয়েছিল। ১৫ বছরে ব্যাংকে রাখলে এখন এই টাকা হবার কথা ২০ হাজার। তার মানে তারা পোস্টপেইড এর নামে আসলে আমাদের দিয়েছে প্রি পেইড ফোন। এটা একটা প্রতারণামূলক কর্ম। দেশের সবচেয়ে বড় প্রতারক প্রতিষ্ঠান ডেস্টিনি বা হলমার্ক নয়, এর নাম জিপি। … রবি শেখাতে শুরু করেছে ইংরেজী.. ফ্রিজিং কোল্ড মানে বেসম্ভব ঠান্ডা…. টেলিফোনে ডাক্তারী পরামর্শ… বেসম্ভব গাধামী…

কথাগুলি কী সত্য না? দু-একটা অপারেটর বাদে, বেশীরভাগ অপারেটরের পোস্টপেইড সংযোগে কলচার্জ বেশী। কল চার্জ কম হলে দেখা যায় অন্য সুবিধা নেই, একটা না একটা সমস্যা আছেই পোস্টপেইড সংযোগে। এটা যেমন ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চা। ছোট্ট কিছু উদাহরণ দেখি -

  • রবি‘র পোস্টপেইড প্যাকেজে এই মুহূর্তে কলচার্জ ৳০.৯০ প্রতি মিনিটে, অথচ রবির প্রিপেইডেই ৳০.৮৪ প্রতি মিনিট প্যাকেজ আছে।
  • রবি প্রিপেইড প্যাকেজে গ্রাহক চাইলে বিভিন্ন ইন্টারনেট বান্ডেল (১ মেগা, ১০ মেগা, ১ গিগা ইত্যাদি) প্যাকেজ ব্যবহার করতে পারেন, পোস্টপেইড গ্রাহকদের সেই সুবিধা নেই।
  • বাংলালিঙ্কের তো বেহাল দশা। পোস্টপেইডের বিল ৳১.২৩ প্রতি মিনিট, অথচ প্রিপেইডে তাদের ৳০.৮৪ প্রতি মিনিট প্যাকেজ আছে। এরা অন্যদের রেকোর্ড ছাড়িয়ে গিয়েছে।
  • রবির মতো বাংলালিঙ্কেও প্রিপেইড গ্রাহকদের জন্য ইন্টারনেট বান্ডেল অপশন অনেক বেশী এবং পোস্টপেইডে অনেক সীমিত অপশন।
  • গ্রামীণফোন আবার বাংলালিঙ্কের চেয়ে কম যায়না। ৳১.২০ প্রতি মিনিট পোস্টপেইডের কল চার্জ, অথচ প্রিপেইডের কল চার্জ ৳১.০৮ প্রতি মিনিট।
  • শুধু এয়ারটেলের ক্ষেত্রেই পোস্টপেইড সংযোগের খরচ সবচাইতে কম দেখা যায়। পোস্টপেইডে ৳০.৭৭ প্রতি মিনিট এবং ৳০.৯৬ প্রতি মিনিট প্রিপেইডে।
  • তবে ঝামেলা আছে এয়ারটেলের ইন্টারনেটে। পোস্টপেইডে ৳৩৫০.০০-এ ১ গিগা ডেটা, আবার প্রিপেইডে ৳৩১৬.২৫-এ ১ গিগা। পোস্টপেইডে বান্ডেল অপশন অনেক সীমিত।
  • অসমতা দেখা যায় টেলিটকেও, পোস্টপেইডে ৳০.৯৯ প্রতি মিনিট এবং প্রিপেইডে ৳০.৯০ প্রতি মিনিট।

শুধু বিল ছাড়াও পোস্টপেইড সংযোগ চালানোর আরও কিছু ঝামেলা আছে। এদের মধ্যে সবচাইতে বিরক্তিকর কয়েকটি হলো -

  • ক্রেডিট লিমিট থাকলেও কোম্পানি ভেদে ৭০-৮০% ব্যবহার হয়ে যাবার পরে কল করতে না দেয়া,
  • ক্রেডিট লিমিট পার হওয়ায় কোনো নোটিফিকেশন না আসা,
  • নগদ টাকা জমা রেখে ক্রেডিট লিমিট বাড়ানো,
  • ব্যাংকে বিল দিলেও সেটা সময়মতো এডজাস্ট না হওয়া,
  • ক্রেডিটকার্ড দিয়ে অটোডেবিট চালু করে রাখলেও সময়মত বিল না নিয়ে লাইন বন্ধ করে দেয়া, ইত্যাদি।

বিদেশে পোস্টপেইড সংযের সুযোগ-সুবিধা অনেক বেশী। যেমন -

  • একজন পোস্টপেইড গ্রাহক অপারেটরের কাছ থেকে কিস্তিতে একটা দামী ফোন নিতে পারে, যা মাসের বিলের সাথে পরিশোধ করতে হয়।
  • প্রতি মিনিট বিল না গুনে নিজের ব্যবহারের উপর আন্দাজ করে একটা বান্ডেল কিনতে পারে, যাতে সে কল, এসএমএস, ইন্টারনেট সহ সব সুবিধা অনেক সাশ্রয়ী মূল্যে পায়।
  • বছরে নতুন নতুন উপহার সহ অনেক কিছু।

বিটিআরসি অনেক কাজ করলেও আমার ধারণা এগুলিতে সমতা আনার জন্য কিছু করেনা, বা কখনো চোখেও দেখেনি যে এরকম একটা অসম ব্যবসা করে যাচ্ছে মোবাইল অপারেটরগুলি দিনের পর দিন।

পোস্টপেইড সংযোগ কিন্তু সাধারণ ব্যবহারকারীরা ব্যবহার করেনা, যারা ব্যবহার করে, তাদের নুন্যতম কমিটমেন্ট থাকে অপারেটরের সাথে। পোস্টপেইড সিম কিনতে হয় বেশী টাকা দিয়ে, আবার সিকিউরিটি ডিপোজিট রাখতে হয়। কিন্তু তারপর কি লাভ!! ঐ টাকা ব্যাংকে ফেলে রাখলেওতো সুদ পাওয়া যাবে। তুষার ভাইর কথাইতো ঠিক।

*উপরের চার্জগুলি এক অপারেটর থেকে অন্য অপারেটরের সাথে কল করার ক্ষেত্রে অনেকগুলি অপশনের মধ্যে সর্বনিম্নটি, এবং ভ্যাট ছাড়া।

ই-কমার্স সপ্তাহ

গত ৫ জানুয়ারি ২০১৩ থেকে ঢাকায় প্রথমবারের মতো শুরু হয়েছিলো ‘ই-কমার্স সপ্তাহ’। বাংলাদেশ ব্যাংকবাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)-এর যৌথ উদ্যোগে সপ্তাহব্যাপী এ আয়োজনে ছিলো ই-কমার্স বিষয়ক প্রদর্শনী, সেমিনার, গোলটেবিল বৈঠক ও কনসার্ট (ফান্ড তো শেষ করতে হবে)।

E-Commerce Week Banner

‘অনলাইনে কেনাকাটা করুন, যেকোনো কিছু, যেকোনো সময়’ এটাই থিম ছিলো ই-কমার্স সপ্তাহের। কিন্তু বাস্তবটা কিরকম আমরা কী একটু দেখতে পারিনা? ই লেনদেনের কয়েকটা চিত্র দেখা যাক।

  • আমরা আমাদের দেশের ভিসা/মাস্টার/আমেরিকান এক্সপ্রেস কার্ড দিয়ে অনলাইনে বিদেশ থেকে কিছু কিনতে পারিনা, শুধু হোটেল বুকিং দেয়া ছাড়া। সেটা কম-বেশী সবাই জানেন। এমনকি ট্রাভল কোটার ঐ কার্ডগুলি দিয়ে উড়জাহাজের টিকিট কেনা যায়না! উড়োজাহাজের টিকেট মনেহয় বাংলাদেশ ব্যাংকের ট্রাভল ডিকশনারিতে পড়েনা!!
  • আমেরিকায় গ্রেহাউন্ড বাসের কিয়স্ক থেকে টিকেট কিনতে পারিনি, কারণ সামনে কিয়স্ক থাকলেও পেছনের লেনদেন হচ্ছিলো ইন্টারনেটে।

এগুলি বিদেশের কথা। দেশী-বিদেশী লেনদেনে ঝামেলা হতেই পারে। আমি যদি ভুল না করে থাকি, তাহলে এই মূহুর্তে বাংলাদেশে কমার্শিয়াল ব্যাংকের সংখ্যা ৫০এর অধিক, দেখি সেগুলোর অবস্থা কী।

  • ই-কমার্স মানে শুধু কার্ড ব্যবহার করে অনলাইনে কেনাকাটা না, যদি বাংলাদেশ ব্যাংক সেটা মনে করে, তাহলে আমাদের পাথরের যুগে চলে যাওয়া উচিৎ। ই-কমার্স সপ্তাহের ব্যানারে অন্তত সেরকম কিছুই লেখা আছে।
  • ৫০টি ব্যাংকের মধ্যে সর্বোচ্চ ১০টি ব্যাংকের অনলাইন সেবা আছে। অন্যদের থেকে থাকলে, হয় আমি জানিনা বা তারা সেগুলি প্রচার করতে বা সেবা দিতে আগ্রহী না। তো এই ১০টি ব্যাংকের অনলাইন সেবায় কী করা যায়? সেগুলি দিয়ে লেনদেন ও ব্যালেন্স দেখা যায়। ওহ্! মাঝে মাঝে আবার সার্ভার বন্ধ থাকে।
  • উক্ত ১০টি ব্যাংকের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫টি ব্যাংক অনলাইনে বসে বিভিন্ন ইউটিলিটি বিল পরিশোধের সুযোগ দিয়ে থাকে। কিন্তু যদি কোনো কারনে আপনি কিছু ভুল করে ফেলেন, আপনার টাকা আর ফেরৎ পাবেন না।
  • এই ৫টি ব্যাংকের মধ্যে ৩-৪টি ব্যাংক অনলাইনে এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে টাকা লেনদেনের সুযোগ দিয়ে থাকে। তার মধ্যে ২টি ব্যাংকে কোনো ঝামেলা ছাড়াই লেনদেন করা যায় এবং অন্যগুলিতে বহু কাঠ-খড় পুঁড়তে হয়, তার চাইতে সেবা না নেয়াই ভালো।

অনলাইন ব্যাংকিং এরকম হবার কারন কী? এবার দেখি দেশের ভেতরে ক্রেডিট/ডেবিড কার্ড ব্যবহারের অবস্থা!

  • এক ব্যাংকের মাস্টার ডেবিড কার্ড নিয়ে গেলাম অনলাইনে কিউবির বিল দিতে, কাজ হয়না। কাস্টমার কেয়ারে ঘ্যানর ঘ্যানর করার পরে জানলাম সেই ব্যাংকের ডেবিড কার্ড অনলাইনে ব্যাবহার করা যায়না!!!
  • আরেক ব্যাংকের ভিসা ডেবিড কার্ড নিয়ে গেলাম অনলাইনে ঐ বিলটি দিতে, কাজ হয়না। কাস্টমার কেয়ারে মা-বাবার নাম বলার পরে (ভেরিফিকেশনের জন্য) খানিকটা প্যাচাল পাড়তে হলো। ১০/১২ মিনিট লাইনে থাকার পরে তারা জানালেন সেই ব্যাংকেরও ডেবিড কার্ড অনলাইনে ব্যাবহার করা যায়না!!!
  • এবার একটা ভিসা ক্রেডিট কার্ড নিয়ে গেলাম ঐ বিল দিতে, একই ভাবে জন্ম তারিখ ও চৌদ্দগুষ্টির নাম শোনার পরে আমাকে বলা হলো তারা আমাদের নিরাপত্তার জন্য অনলাইন ট্রানজেকশন বন্ধ করে রাখেন। তবে এক্ষুনি খুলে দিচ্ছেন যাতে আমি বিলটা দিতে পারি। কিছুক্ষণ অপেক্ষায় রাখার পরে আপুটা কাজটা করতে না পেরে প্রচন্ড দুঃখ প্রকাশ করলেন (শুধু হাউমাউ করে কাঁদেননি) এবং আমাকে ঐ ফোনগুলি থেকে ফোন করতে বললেন যেগুলি এই কার্ডের সাথে নিবন্ধিত আছে। সেটাই যদি হবে, তাহলে জন্মতারিখ সহ চৌদ্দগুষ্টির নাম জিজ্ঞেস করার দরকার কী ছিলো?
  • ফোনে কথা হচ্ছিলো একটি ই-কমার্স দোকানের সাথে -
    : ভাই আমার কার্ডতো অনলাইনে ঝামেলা করে।
    : আপনি চেক আউটের সময় ‘ক্যাশ অন ডেলিভারী’ নির্বাচন করুন। আপনি অনলাইনে টাকা দিলে সেই টাকা আমার একাউন্টে আসতে মাস পার হয়ে যাবে, এর থেকে ক্যাশ নিতেই আমরা আগ্রহী!
  • সেদিন ফেসবুকেও দেখলাম, এক বন্ধু লিখেছে, “Bought StartupWeekend Student ticket from _____ but did not get any confirmation. Card is charged. I’ve complained by calling their number yesterday. they said they will inform me the status. but no further communication by them!!!”

কোনো ব্যাংক বলে সেন্ট্রাল ব্যাংকের নির্দেশে আমরা এরকম করছি, আমাদের কাছে চিঠি দেয়া হয়েছিলো। একটা দেশের সেন্ট্রাল ব্যাংক একটাই এবং নীতিমালাও এক, তাহলে একেক ব্যাংক একেক রকম কথা বলে কেন? কেউ সুযোগ দেবে কেউ দেবেনা এরকম হওয়া উচিৎ না।

অনেকে জেনে থাকবেন যে বিদেশে একটা একাউন্ট পে চেক জমা দিতে ব্যাংকে যেতে হয়না। বাসা থেকে চেক স্ক্যান করে অনলাইনে ফর্ম পূরণ করলেই কাজ হয়ে যায়। বেসিস বা বাংলাদেশ ব্যাংক কি আদৌ এগুলি ঠিক করতে পারবে!

পুরুষদের জন্য দেশী পণ্য – কুল

আমি ডেনিম ব্র্যান্ডটির একচেটিয়া ভক্ত ছিলাম, কিন্তু দিন দিন আমাদের দেশে এর মান খারাপ হতে থাকায় এক্স ব্যবহার করতে শুরু করি, কিন্তু এখানেও একই সমস্যা! দিন দিন পণ্যের রঙ-চঙ বাড়লেও পরিমান কমতে থাকে। যেই বডি-স্প্রে একমাস যাবার কথা, সেটা সর্বোচ্চ পনেরোদিন ব্যবহার করা যায়। কিন্তু বাহারি বাজ্ঞাপণ আবার ঠিকই চলছে। এক্স তো তাও ব্যবহার করা যায়, কিন্তু ডেনিমের বোতলের অবস্থা দেখলে মনে হয় এটা জিঞ্জিরায় তৈরী হয়।

এবছর শুরুর দিকে স্কয়ার টয়লেট্রিজের কুল বডি-স্প্রে কিনে নিয়ে আসলাম, ব্যবহার করেই ভালো লেগে গেলো। সত্যই অসাধারণ লেগেছে প্রথম ব্যবহারেই। অপেক্ষা করছিলাম পুরুষদের জন্য অন্যান্য পণ্যের। আজকে দেকানে ঘুরতে ঘুরতে দেখি কুল ব্র্যান্ডের শেভিং ফোম ও আফটার শেভ জেল পাওয়া যাচ্ছে। শেভিং ফোম গত ৩ বছরে কেনা হয়নি, তাই সঠিক বলতে পারছিনা এটা কবে বাজারে এসেছিলো। একটা শেভ দিলাম, মাথাই নষ্ট, এত স্মুথ আর আরামদায়ক হবে ভাবতে পারিনি। শেভ করার পরেও একটা ঠান্ডা অনুভুতি।

শেভ করার পরে আমার চামড়া খস্‌খসে হয়ে থাকে, এই আফটারশেভ জেলটা ব্যবহারের পরে অসম্ভব কোমল হয়ে আছে চামড়া। সব মিলিয়ে আমি ভীষণ খুশি এই পণ্যগুলি পেয়ে। অনেকেই হয়তো নাক সিটকাবে দেশী পণ্য বলে কিন্তু আমি একবার ব্যবহার করে দেখার পরামর্শ দেবো, আশাকরি হতাশ হবেনা।

এই পণ্যগুলি কোনোভাবেই আন্তর্জাতিক মান থেকে কম যায়না। অবশেষে একটা ব্র্যান্ড পেলাম যা একসাথ দু্ই/তিনটা ব্র্যান্ডের সাথে প্রতিযোগীতা করবে।

মাইক্রোসফট সার্ফেস (আরটি) নিয়ে চারদিন!

গতমাসে মাইক্রোসফট অনেক ঢাক-ঢোল পিটে সার্ফেস নামের নতুন এই গ্যাজেট লঞ্চ করেছে। সার্ফেস লঞ্চ অনুষ্ঠানগুলিতে মাইক্রোসফটের বড় বড় কর্মকর্তাদের গুলিস্তানের হকার বনে যাওয়া দেখে ভাবলাম এই যাদুর বাক্স চালিয়ে না দেখলেই না! উঠে পড়ে লেগে গেলাম কিভাবে এই জিনিস আমেরিকা থেকে আমদানী করা যায়। গত সপ্তাহে এক বড়ভাই’র আত্মীয়র মাধ্যমে আমেরিকা থেকে একটি সার্ফেস আনিয়ে নিয়েছিলাম। জিনিসটা হাতে পেয়ে অসম্ভব ভালো লাগছিলো। অসাধারণ ডিজাইন, এমনকি প্যাকেজিংটাই অসম্ভব সুন্দর। বলতেই হয় অ্যাপলের কাছ থেকে কিছু হলেও উৎসাহ পেয়েছে মাইক্রোসফট।

আমি একদম কম খরচেরটা কিনেছিলাম। কম খরচ বলতে কী-বোর্ডের ধরণ/রঙে এবং স্টোরেজের পরিমাপের উপর ভিত্তি করে সার্ফেসের দামের অনেক তারতম্য আছে। যেমন:

  • কী-বোর্ড বাদে ৩২ গিবা সার্ফেস আরটি – $৪৯৯
  • কালো টাচ্ কী-বোর্ড ৩২ গিবা সার্ফেস আরটি – $৫৯৯
  • কালো টাচ্ কী-বোর্ড ৬৪ গিবা সার্ফেস আরটি – $৬৯৯
  • অন্য রঙের টাচ্ কভার (সাদা, লাল, ফিরোজা, গোলাপী) – $১১৯
  • সার্ফেস কালো টাইপ কভার – $১২৯

আমি $৫৯৯ দিয়ে কালো টাচ্ কী-বোর্ড সহ ৩২ গিবা সার্ফেস আরটি কিনেছিলাম। আর মাইক্রোসফট জার্মানীর এক বন্ধুর দেয়া কুপন ব্যবহার করে $৯৯ ডিসকাউন্ট নিতে পেরেছিলাম মাইক্রোসফট স্টোর থেকে।

সারাদিন চার্জ করার পরে সেদিন সন্ধ্যায় অনেক উত্তেজনা নিয়ে সার্ফেসটা চালু করলে প্রায় তিন ঘন্টা ধরে স্ক্রিণে “অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন আমরা আপনার জন্য সার্ফেস প্রস্তুত করছি, ধৌর্যের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ” টাইপের একটা ম্যাসেজ ঝুলে ছিলো। অগত্যা আবার চার্জে লাগিয়ে বসে থাকলাম। আমি কিন্তু ওয়াই-ফাইতেও সংযুক্ত করিনি তখনো। চালু হবার পরে ইন্টারনেটে কানেক্ট করলাম, মাইক্রোসফট একাউন্টে লগ-ইন করলাম, কিন্তু স্টোরে গেলে আমাকে বার বার বলছে যে আমি ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত নই, অথচ আমি অনায়াসে নেট ব্রাউজ করতে পারছিলাম।

পরে বুঝতে পারলাম এখানে দেশ ভিত্তিক ঝামেলা থাকতে পারে। আমি এর আগেও মাইক্রোসফটের সংকীর্ণমনতা দেখেছি এসব ক্ষেত্রে, তাই Outlook-এ গিয়ে আমেরিকার ঠিকানা দিয়ে একটা ইমেইল খুললাম, সার্ফেস ফ্যাক্ট্রি রিসেট দিয়ে আবার ঐ ইমেইল দিয়ে চালু করয় দেখি স্টোরের ঝামেলা ঠিক হয়েছে।

আমার একটা দ্বিতীয় প্রজন্মের আইপ্যাড টু আছে। সার্ফেসটা সেটা থেকে একটু বড় হলেও স্ক্রীনে অতটা উজ্বল না। দিনের আলোতে ব্যালকনিতে ব্যবহার করা যায়না ঠিকমত। তারমানে কেউ যদি গাড়িতে বসে কাজ করতে চায়, সেটা মনেহয়না সম্ভব হবে। থিউটিটিক্যালি এটা ওজন আইপ্যাড থেকে কম বলা হলেও আমার কাছে সেরকম কিছু মনে হয়নি, বরং আকারটা একটু বাল্কি মনে হয়েছে।

উইন্ডোজ আরটি-এর মধ্যে ডেস্কটপ মোড আছে, কিন্তু সেটা কেনো আছে তা আমার কাছে পরিস্কার না। কন্ট্রল প্যানেলে কিছু করতে গেলে কখনো মডার্ণ মোডে কখনো ডেস্কটপ মোডে যায়! আমার মনেহয় ব্যহারকারীরা এতে চরম বিরক্ত হবে।

স্টোরে কাজে লাগার মতন অ্যাপের বড়ই অভাব। আর যেগুলি আছে সেই অ্যপ্লিকেশনগুলি অসম্ভব ধীর গতির! একটায় ট্যাপ করে বসে থাকতে হয়। আবহাওয়ার অ্যাপ্লিকেশনের মিনিট খানেক লাগে ডেটা নিয়ে আসতে (আমেরিকায় আরও ভালো কাজ করতে পারে উচ্চ গতির ইন্টারনেটে)।

যেই অ্যাংরি বার্ডস্ অ্যান্ড্রোয়েডে বিনামূল্যে পাওয়া যায়, বা HD ভার্সনটা আইওএসে দুই ডলার দিয়ে পাওয়া যায়, সেটা (HD কি না সেটা বলা নাই) উইন্ডোজ স্টোরে আইওএসের চাইতে আরও দেড় ডলার দাম বেশী। আমি কারণ বুঝতে পারিনি।

স্কাইপির মতন অ্যাপ্লিকেশন কত খেলনা আর স্লো হতে পারে, সেটা জানতে উইন্ডোজ আরটি ব্যবহার করা দরকার। সামনে-পেছনে ক্যামেরা থাকলেও ক্যামেরার পারফরমেন্স আমার কাছে সেরকম সুবিধার মনে হয়নি! সামনের ক্যামেরার ছবি অনেকটা ব্লার হয়ে যায় থেকে থেকে।

আমার ধারণা এর প্রসেসরে একটা ঘাপলা আছে। সবকিছুই অত্যন্ত ধীর গতির। আর পিসির সাথে ভিডিও, গান, ছবি লেনদেনের বিষয়টা অত্যন্ত বিরক্তিকর এই যুন প্লেয়ারের কারণে।

কেনার আগেই কিছু জিনিস বিবেচনায় আনা উচিৎ ছিলো, যেমন অ্যাপলের একটা পণ্য রিলিজ হলে মানুষ লাইন ধরে সেটা কেনার জন্য অপেক্ষা করে, কিন্তু উইন্ডোজ এইট বা সার্ফেসের ক্ষেত্র কিন্তু সেরকম কিছু হয়নি। জেডিনেটের লেখক বেন উড  একটা সুন্দর কথা লিখেছিলেন “Would I buy a Surface RT right now? Probably not. If it was my cash, I’d be inclined to wait for the Surface Pro, but then that’s because I use tablets like a laptop replacement (where it’s not appropriate or convenient to use a full-size device) rather than as a companion device or for gaming.” এখন সিদ্ধান্তটা ব্যবহারকারীদের। :)

তবে সার্ফেসের যে কোনো ব্যবহার নাই তা না, মাউক্রোসফটে উইন্ডোজ গ্রুপের প্রধান স্টিভেন সিনোফস্কি সার্ফেস দিয়ে রোলার স্ক্যাট বানিয়ে দেখিয়েছেন-

আমাদের মা-বোনেরা হয়তো পাটা (যাতে মশলা পেশা হয়) হিসেবেও সার্ফেস ব্যবহার করতে পারবেন। :)