ফ্যান্টাসি কিংডমে জীবনে প্রথম – ওরা যেভাবে আমাদের ছিল দিয়ে দিলো

সকালে ঘুমের মধ্যে বৌ এসে মোবাইল হাতে দিয়ে বললো, “হাসিন ভাই’র ফোন, বলে জরুরী।” আমি মোবাইল নিতেই হাসিন বললো, “চলো একসাথে ফ্যান্টাসি কিংডমে যাই, মজা হবে।” আমি রাজি হয়ে গেলাম এবং ফ্রেশ হয়ে নাশ্তা করে দুই বন্ধু মিলে রওনা হলাম ফ্যান্টাসি কিংডমের উদ্দেশ্যে।

আমি এর আগে কখনো ফ্যান্টাসি কিংডমে যাই নাই। আমাদের উদ্দেশ্য হলো ওয়াটার কিংডমে যাওয়া। ফ্যান্টাসি কিংডমের গেটে পৌছে টিকেট কাউন্টারে মেজাজ গরম হয়ে গেলো। ওয়াটার কিংডমে যেতে হলে আমাদের ফ্যান্টাসি কিংডমের টিকেট করতে হবে। কিন্তু কেনো!!! কাউন্টারের মেয়েটি অতি বিনয়ের সাথে জানালো আমরা যদি ফ্যান্টাসি কিংডমে না প্রবেশ করি, তাহলে ওয়াটার কিংডম বা হ্যারিটেজ ওয়ার্ল্ডে যাবো কেমন করে। অগত্যা ডবল টিকেট কিনতে হলো।

এখানে একটা খবর না দিলেই নয়, রেডিওতে এবং পত্রিকায় কিছুদিন থেকে ফ্যান্টাসি কিংডমের নববর্ষ অফারের বিজ্ঞাপণ দিচ্ছে। ১০০ টাকায় প্রবেশ করলে সব রাইড ফ্রি। কিন্তু কাউন্টারের মেয়েটি এই ভুলটিও ভেঙ্গে দিলো। আমাদেরকে ১০০ টাকায় সব রাইড দেয়া হবে ঠিকই, কিন্তু আমাদের প্রবেশের মূল্য আলাদা দিতে হবে। আমি বেশ বিরক্ত হলাম।

আজ শনিবার হওয়ার সত্ত্বেও কোনো মানুষ নাই। প্রায় ফাঁকা পরিবেশ। ফ্যান্টাসি কিংডমের সীমানা পার হয়ে ঢুকলাম ওয়াটার কিংডমে। সেখানকার প্রথম বিরক্তিকর বিষয়টি হলো ওদের ফ্লোর সিমেন্টের এবং রোদের কারণে চরম গরম হয়ে আছে এবং একটু হাঁটতেই পায়ে ফোসা পড়ে যাবার উপক্রম। পানিতে লাফালাফি করার পরে আমরা গেলাম রাইডগুলিতে চড়তে। হায় আল্লাহ্! রাইডে ওঠার সিড়ি লোহার পাটাতন, ওটা দিয়ে উঠতে পা শিক কাবাব হয়ে যাবার উপক্রম। হেঁটে হেঁটে ৫০ ফিট উপরে উঠলাম টিউব নিয়ে। স্লিপার টানেল দিয়ে নামতে বেশ মজা হলো, কিন্তু নীচে এসে যেই হাউজে পড়লাম, সেটার পানিও গরম। উল্লেখ্য যে এরা কখনো পানি বদল করে না, পানির জীবাণু (যার মধ্যে অনেকের মূত্র মিশ্রিত আছে বলে আমার মনে হয়) মারার জন্য ব্লিচিং পাউডার ব্যবহার করে এবং সেটারও উগ্র গন্ধ।

একটা হাউজ আছে যেখানে কৃত্তিম উপায়ে সমুদ্রের মতন ঢেউ তৈরী করা হয়, সেটা চালু হচ্ছে না। ১টার আগে না-কি চালু হয় না। ঐ হাউজে প্রেমিক প্রেমিকারা গলা পর্যন্ত ডুবে হাতে দিয়ে সেক্সের একটা অংশ সেরে নিচ্ছে, তাই ওদের বিরক্ত না করে অগত্যা অন্যখানে সময় অপচয় করলাম। এরই মধ্যে মাইকে বলা হলো সেই ঢেউ কিছুক্ষণের মধ্যে চালু হতে যাচ্ছে। আমরা সেখানে গিয়ে হাজির হলাম, বড় সাউন্ড সিস্টেমে গান বাজিয়ে সমূদ্র তৈরী করা হচ্ছে, ভালোই, সেক্সি মেয়েরা নাচছে, আমরা ভাসছি।

কিছুক্ষণের মধ্যেই আমাদের অবাক করা দিয়ে ঢেউ বন্ধ হয়ে গেলো এবং পাশে ঝর্ণা চালু হলো। আমি বুঝলাম এদের সিস্টেম হচ্ছে ওরা যেখানে চাইবে, পাবলিক সেখানে গেজাবে। ঝর্ণার পাশে একটা রকিং জোন আছে যেখানে শিরশির করে পানি পড়ছে আর জোরে গান বাজছে। সেখানে ছেলেরা এবং সেক্সি মেয়েরা নাচছে। সুন্দর লাগছে, কিন্তু আমরা আগ্রহ পেলাম না। চললাম খাবারের সন্ধানে।

সে-কি! ভারী খাবারের মাত্র ২টা ম্যানু এবং চড়া দাম। খেলে খাবেন না খেলে জাহান্নামে যান। হালকা খাবারের ম্যানু থেকে নান আর গ্রিল চিকেন খেলাম, একই খাওয়া ঢাকায় যে-কোনো স্থানে খেলা ৩০০ টাকা বিল হতো ম্যাক্সিমাম, সেখানে প্রায় ৭০০ টাকা দিয়ে খেলাম সেগুলি। কিছু করার নেই, আপনি বাহির থেকে খাবার আনতে পারবেন না। এমন কি সিগারেডও আনতে পারবেন না (যদিও অনেকে চুরি করে এনে খাচ্ছেন)।

খাবার শেষে একটু বিশ্রাম নিয়ে আবার রাইডগুলির দিকে ফিরে গেলাম, সে-কি! এখন তো পানি সিদ্ধ হওয়ার মতন গরম। খুবই বাজে অবস্থা।

এখানে ঢোকার আগে অবশ্য হাসিন একবার বলছিলো নন্দনে যেতে, আমি যেহেতু এখানে আগে আসি নাই, তাই এখানে এলাম। ভীষণ বাজে পরিবেশে এক গাদা টাকা নষ্ট করে এলাম। এরা বিজ্ঞাপণে বলে এক কথা, আর বাস্তবে আরেক! এখানে আসার আগে অবশ্যই দুই বার ভাববেন এবং একগাদা টাকা বেশী নিয়ে আসবেন।

Leave Comments...

jOhnny says:

aro jeshob ku kormo hoy okhane shegulo o bhashay prokash korar moto noy. “babar naam janena” emon chhele r “jonmer thik nai” emon meyeder jonno ottonto udaar ebong adhunik kortripokkho shekhane lazy room namer ekta gopon guhar moto tunnel baniye rekhechhen.. Omi bhai, apnara jokhon jhornay “bajaira” meyeder nach dekhte byasto chhilen shei shomoytay oi lazy room e ki hoy ta ki janen?? onuman nishchoy korte parsen!

jOhnny says:

amar besh koyekbar Water Kingdom e jaowar durvagyo hoyechhilo. Ashole amra bondhura- jokhoni Cox’sBazar jaowar sex uthto kintu poysha thaktona tokhoni doodher shwad ghole metanor jonno Water Kingdom jetam. prothom barer golpo boli- shebar ekta English medium school theke ekta group of students with 2 of their teachers berate eshechhilo. wave pool e amader pashei dekhi ekta chhele r tar classmate (sexmate!) sexology’r practical korchhe!! ora pagoler moto french kiss korchhilo. ora atmost class 9 er student chhilo. hothat pash theke oder arek bondhu oder ke shabdhan korar jonno dak dilo-”ai Ishty, sir dekhe felbe”.. amra bhirer majhe edik odik khuje ja dekhte pelam ta dekhe amader chokkhu chorok gachh!! oder male teacher ta female teacher ke mone hocchhilo okhanei chhire kheye felbe!! they were more furious than their students!!
ei kh**** chheleder ovishap deyar bhasha khuje paina.

আমি একবার গিয়েছিলাম ফ্যান্টাসি কিংডমে। সুন্দরী্ এবং আধুনিক বাঙ্গালী নারীদের জন্য জায়গাটাকে খুব মায়াবী মনে হয়। তবে পরিবেশ জঘন্য রকম খারাপ। আমার সঙ্গে এক বঙ্গ লালনা ছিলো তবে বড়ই লাজুক। কিছু করতেও দেয়না আবার দেখতেও দেয় না টাইপের।

যাইহোক ফ্যান্টাসি কিংডম থেকে ফেরার দুইদিন পর নিজেকে আবিষ্কার করলাম ফ্লিকারে। বঙ্গ লালনাসহ আমি। আমারে না জানাইয়াই ছবিটা তুলেছিলো কেউ একজন। বিশ্ময়কর হচ্ছে সেই ছবিতে হাসিনও ছিলো …

Engr. sohel says:

Tanx Omi Ji.

jak baba dhora kahoar agei baicha gelam. Asole bd te binodoner place eto kom je, manus er kono choice nai. ar cheme publicder cholani dichce oi wonderLAND(Dhon!) oalara.

আরে ভাই, আমি বউসমেত নন্দন পার্ক গিয়েও তো কম ধরা খাই নাই।

কাহিনী এখানে: http://www.sachalayatan.com/hussainuzzaman/14250

raihan abir says:

অমি ভাই,
দারুন লিখছেন। আমি অনেক আগে একবার ফ্যান্টাসি তে গিয়েছিলাম। তখন অবশ্য এই সব ওয়াটার পার্ক চালু হয় নাই…ছিলা খাই নাই। তার কারণও ছিল। কলেজ থেকে শিক্ষা সফরে নিয়ে গিয়েছিল। এইসব ক্ষেত্রে সাধারণত কলেজ থেকে স্পন্সর করা হয়। কিন্তু আমাদের অথোরিটি করে নাই। সাতদিনের শিক্ষাসফরের প্রায় শেষ পর্যায় হওয়ায় কারও পকেটে টাকা পয়সা ছিল না। আমরা খালি ঘুরে বেড়াইছি। :(

ইচ্ছা ছিল ওয়াটার কিংডম থেকে ঘুরে আসবো…ইতিমধ্যে অনেক মানুষের কাছে এইটা বদনাম শুনেছি। এখন আবার ডিটেইসল শুনলাম.. এবং না যাওয়ার কসম কাটলাম…

কুচ্ছিত হাঁসের ছানা says:

কি আর কমু ভাই…
এইসব জায়গাতে গেলে মন আর মেজাজ দুইটাই খারাপ হৈয়া যায়।
এরা সিল মারতে মারতে আর মারার জায়গা রাখে না।
তবে ওয়েভ আর রেইন ড্যান্সের সেক্সি মেয়েদের কথা মনে পড়লে বারবার সিল খাইতে ইচ্ছা করে। :(