ওয়াইম্যাক্স – আশায় গুড়েবালি!

অনেক হৈ চৈ পড়েছিলো দেশে যে ওয়াইম্যাক্স প্রযুক্তি আসছে! আগা মাথা না বুঝেই লাফা লাফি শুরু হলো পাবলিকের (যেটা হয় সবসময়)। সবার ধারণা হলো, গরীব এই দেশে অল্প টাকায় অনেক দ্রুত গতির ইন্টারনেট পাবার এটাই একটা উপায়! কেউ এটা বুঝলো না যে ব্যান্ডউইড্‌থ নামে একটা জিনিস এই সেবার সাখে জড়িত, যা আমাদের দেশে এখনো অনেক মূল্যবান এবং ওয়াইম্যাক্সের মাধ্যমে সেটাই গ্রহণ করতে হবে। তাই সেটার দাম বেশী থাকলে কখনো কম দামে সেবা পাওয়া যাবে না।

ঐ যে বললাম, আগা মাথা কোনো জ্ঞান নাই, আজাইরা লাফা লাফি। আমাদের সরকার আবার প্রায় দুইশত পনেরো কোটি টাকার নিয়ে লাইসেন্স নিলাম করে একে অপরের পিঠ চাপড়ায় নিজেদেরকে বাঘের বাচ্চা মনে করে। এটা একবারও মাথায় আসলোনা যে এই টাকা কোম্পানী ব্যবসা শুরু করে সাধারণ মানুষদের চিপা দিয়ে বের করে নিবে। অনেকে কথাটা বলেছিলো শুরুতে, আমাদের দেশে কে কার কখা শোনে!

শুরুতে তিনটা কোম্পানী লাইসেন্স নিলেও এখন টিকে আছে দু’টা। এই বছর শুরুর দিকে বাংলা লায়ন (সাইটটিতে ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার ৬ দিয়ে যাবেন না, ভাইরাস আছে) অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন শুরু করে, কিন্তু অপারেশনে আসার খবর নাই। কয়েকজন এরই মধ্যে বাংলা লায়নের পরীক্ষামূলক সংযোগ পেয়াছে। এদের সেবার মান সত্যই সবার জন্য হতাশা জনক। এই লাইন থাকার চাইতে না থাকা ভালো। ল্যাপটপে ইউএসবি ডঙ্গল লাগিয়ে রাস্তায় চলমান অবস্থায় নেটওয়ার্ক থাকে না যেসব এলাকায় নেটওয়ার্ক আছে। স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলে নেটওয়ার্ক আসে। কি হাস্যকর!

পরে অওগের নামের একটি কোম্পানী কিউবি ব্র্যান্ড নাম নিয়ে ব্যবসা আরম্ভ করে। এরাও ওয়াইম্যাক্স প্রযুক্তি ব্যবহার করছে বলে দাবি করে। একবার যদি আমরা ওয়াইম্যাক্স নিয়ে লেখাপড়া করি তাহলে বুঝতে পারবো এই প্রযুক্তি আসলে কি। ওয়াইম্যাক্স অর্থ হলো, আপনি উচ্চ গতির ইন্টারনেট বা ডেটা ব্যবহার করতে পারবেন চলমান অবস্থায়। কিউবি সেখানে প্রথমবার হতাশ করলো। তাদের বিশাল সাইজের মোডেম নাকি জানালার কাছে রাখতে হবে, নাইলে কাজ করেনা। ইন্টেল যখন আইইইই-এর একটি কনফারেন্সে ওয়াইম্যাক্স বর্ণনা করছিলো, তখন বলেছিলো, যত বাঁধাই থাকুক, ওয়াইম্যাক্স দেবে লাস্ট মাইল পারফরমেন্স। তাহলে জানালায় কেনো!

আবার ট্যারিফ দেখলে মাথা নষ্ট! লাইন নিতেই দিতে হবে সাত হাজার টাকা। পারে মাসে মাসে সস্তা কোনো প্যাকেজ নাই, নাই আনলিমিটেড প্যাকেজ। আসলে ওদেরও তেমন কোনো দোষ নেই। একে তো চড়া দামে লাইসেন্স কিনেছে, তার উপরে এক মেগা ব্যান্ডউইড্‌থের দাম প্রায় একুশ হাজার টাকা। ওরাই বা কি করবে, কতই বা গতি দেবে, কতই বা টাকা কম নেবে। ব্যবসা করে তো চলতে হবে।

আমাদের দেশেই ইন্টারনেটের অবস্থা শোচনীয়। সেদিন আমার এক বন্ধু বললো, “বাংলাদেশে ইন্টারনেট এখনো বড়লোকদের বিলাসিতা।” কথাটা মাঝে মাঝে খুবই সত্য মনে হয়। আমি বলছিনা আমাকে ট্রান্সফার লিমিট ছাড়া পাঁচশত টাকায় এক মেগা লাইন দিক। কিন্তু সেবার একটা ন্যুনতম মান থাকা দরকার। আজকে কিন্তু আমরা যে কেবল টিভি দেখি, সেটারও একটা মান আছে, একটা নীতিমালা আছে। কিন্তু হতাশার বিষয় হলো ইন্টারনেটের ন্যুনতম কোনো নীতিমালা নেই। যে যেমন চাইছে তেমন লাইন দিচ্ছে, অনেক টাকা দিয়ে সংযোগ নিলেও সেবা পাওয়া যায় না, ঝামেলার শেষ নাই। সরকার দাম নির্ধারণ করে দিলেও কেউ মানে, কেউ মানে না।

আইটি লাইনের সবাই অনেক আগ্রহের সাথে অপেক্ষা করছে যে এটার একটা সমাধান আসবে, আমরাও একসময় আলো’র মুখ দেখবো।

মন্তব্য করুন